বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উদ্বেগ রয়েছে। সংস্থাটির মিশনের সঙ্গে গতকাল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকায় আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
আইএমএফের গবেষণা শাখার উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিওর নেতৃত্বে গতকাল থেকে সংস্থাটির মিশন শুরু হয়েছে। চলবে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রথম দিনে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মিশনের কর্মকর্তারা। এ সময় ঢাকায় আইএমএফের আবাসিক প্রতিনিধি জয়েন্দু দে ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সিওক হিউন ইউনসহ মিশনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আইএমএফের মূল ফোকাস কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরেকটু স্থিতিশীল করা এবং বাজেটে ঘাটতি কমানো। আমরা মূল্য সংযোজন করের (মূসক) হার একক রেটে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তবে এটি একবারে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। মূলত আইএমএফের উদ্বেগ হলো রাজস্ব আহরণ জেনারেশন, আমাদের বাজেটের আকার কত হবে, ঘাটতি কত থাকবে—এগুলো নিয়ে আপাতত কথা হয়েছে। আমার সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়নি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে কথা হবে। ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা হবে। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা, খেলাপি ঋণ আদায়, কর-জিডিপির অনুপাত কীভাবে ও কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়ানো হবে—এগুলো নিয়ে আমার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সবার সঙ্গে তারা আলাদাভাবে বসবে। তারপর আপনারা কয়দিন পর জানতে পারবেন।’
আইএমএফের ঋণের কিস্তি পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। তারা (প্রতিনিধি দল) বলেছে, দেখব। তারা যাওয়ার পর ১৯ এপ্রিল আমি যাব। তারপর মে-জুনের দিকে বৈঠক হবে। এ রিভিউর ওপরই তাদের সুপারিশ। এক্ষেত্রে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো স্থিতিশীল করা ও বাজেট ঘাটতি কমানোর মতো বিষয়গুলোয় তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মোটামুটি স্থিতিশীল, সঠিকপথে আছে। কিন্তু রিভিউ করার পর আরেকটু দেখবে। তারা বলেছে তারা সন্তুষ্ট, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল আছে। তবে তারা ডিটেইল জিনিসগুলো দেখবে।’
রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর জন্য আইএমএফের চাওয়া কী—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আইএমএফ বলছে, আমাদের জিডিপি নেপালের চেয়ে অনেক বড় হলেও কর আহরণ তাদের থেকে অনেক কম। নেপালে কর-জিডিপি অনুপাত ১২-১৩ শতাংশ। ভারতে প্রায় ১৭-১৮ শতাংশ। ওরা বলছে, তোমাদের এটা কম হওয়ার কারণ হয়তো করের আওতা কম। লাখ লাখ লোক আছে, যারা জিরো ট্যাক্সে রিটার্ন দেয়, তাদের আয় আছে কিন্তু তারা রিটার্ন দেয় না।’
আইএমএফের ঋণ পেতে কোন বিষয়গুলোয় ছাড় দিতে হবে, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি সোজাসুজি বলেছি, আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করার দরকার আমরা তা চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমাদের সদিচ্ছা দেখিয়েছি। ওদের দিক থেকে সদিচ্ছা দেখাক। তারপর আমরা সম্পৃক্ত হব, আলোচনা করব।’
ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলব।’